এনইসিতে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন

এনইসিতে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন

এনইসিতে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় শত বছরের টার্গেট নিয়ে তৈরি করা বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা পাশ হয়েছে এনইসি বৈঠকে। ঢাকায় মঙ্গলবার সকালে ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম এ পরিকল্পনা পাশ হয়।
বৈঠকে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন এর প্রস্তুতকারক পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেল।
এই পরিকল্পনার সার-সংক্ষেপের খসড়া গত ২৭ জুন উপস্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে। দীর্ঘ সময় তিনি এ পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো শুনে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেইসব সুপারিশ সমন্বয় করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়।
আগামী ১০০ বছরের টার্গেট করে ব-দ্বীপ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তৈরি এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হবে। এই তহবিলের উৎস হবে বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত তহবিল বিশেষ করে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) । সেই সঙ্গে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ডেল্টা কমিশন গঠন করা হবে।
জিইডি সূত্র জানায়, দেশের পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে সহায়তা দিয়েছে নেদারল্যান্ড। পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে দেশটি।
জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা। নেদারল্যান্ডের বাইরেও সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এতে ব্যয় করা হয়েছে। এতে পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভূ-প্রতিবেশ খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ব-দ্বীপ ভূমিতে প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রশাসন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার প্রচেষ্টা রয়েছে। সমন্বিত নীতি উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর করণীয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ প্রয়োজন হবে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এজন্য জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থায়ন সম্বলিত বাংলাদেশ ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যার মধ্যে দুই শতাংশ নতুন বিনিয়োগ এবং শূণ্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় করা হবে। জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ সরকারি তহবিল হতে এবং শতকরা ২০ ভাগ বেসরকারি খাত থেকে আসবে।
এতে আরও বলা হয়, অর্থায়নের ক্ষেত্রে কস্ট রিকভারির জন্য বেনিফিসিয়ারিতে প্রিন্সিপাল অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বড় শহরগুলিতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আদায়ের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে এবং তা পর্যায়ক্রমে সময়ের আবর্তনে অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।
‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা’য় ২০১৭ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩টি প্রকল্পের জন্য ৮৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা; বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ অঞ্চলের ৯টি প্রকল্পের আওতায় ১৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা; হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৬টি প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৮ প্রকল্পের অনুকূলে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা; নদী এবং মোহনা অঞ্চলে ৭টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং নগরাঞ্চলের জন্য ১২টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বরিশাল নিউজ/শাওন

Comments

comments

২০১৮-০৯-০৫T১২:৩৪:৪১+০০:০০ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ ২:৩২ অপরাহ্ণ|