বরগুনায় হচ্ছে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের কাজ চলছে

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। বরগুনায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছে আইসোটেক গ্রুপ।
এ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেকট্রোফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোট নিশানবাড়ীয়ায় নির্মাণ করতে যাচ্ছে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প। আগামী ২০২২ সালের শুরু থেকেই উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আইসোটেক। উৎপাদন শুরুর পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নূন্যতম ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার প্লান্টটির নির্মাণ কাজ ৪৫ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।
চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেস এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি সম্পন্ন করেছে আইসোটেক। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’। প্রকল্পটি ‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হবে। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ৩০০ একর জমির উপর নির্মিতব্য এই প্লান্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা (প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। তবে কয়লার দরের উপর সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম পড়বে ৪ টাকা।
নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দূরত্ব টেংরাগীরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (ফাতরার চর) থেকে ন্যূনতম ৬.৩৮ কিলোমিটার এবং সুন্দরবন থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার এবং সুন্দরবন (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ইতোমধ্যে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে আইসোটেক। এছাড়া নির্মানাধীন প্রকল্প এলাকায় সরকারি কোনো খাস জমি নেই মর্মে ভূমি অফিস থেকে এবং প্রকল্প এলাকায় বন বিভাগেরও কোনো জমি নেই বলে বনবিভাগ ছাড়পত্র দিয়েছে।
ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে দেওয়া হবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র।

আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার ফিরোজ চৌধুরী বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করে প্রকল্প এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। যেহেতু এলাকার পানি লবনাক্ত সেহেতু গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রকল্প এলাকায় নানামুখী সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে আইসোটেক গ্রুপ।
বরিশাল নিউজ/প্রেসরিলিজ

Comments

comments

২০১৮-০৮-১৮T১৯:৪৫:২৬+০০:০০ শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮ ৯:০৫ অপরাহ্ণ|