মরে যাচ্ছে গৌরনদীর হৃৎপিন্ড

গৌরনদীর পালরদী খাল-বরিশাল নিউজ

শামীম আহমেদ॥ ”এই খালটি গৌরনদীর হৃৎপিন্ড। একসময় এই খালকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল গৌরনদীর টরকী বন্দর। এখানকার কৃষি, ব্যবসা-বানিজ্য আর যাতায়াত সবই ছিল এই খালভিত্তিক। কিন্তু দখল, অযন্ত আর অবহেলায় এখন মরতে বসেছে এ খাল।” কথা হচ্ছিলো গৌরনদীর স্কুলশিক্ষক মো. নান্নু মিয়ার সাথে। বলছিলেন দৈর্ঘ্য আর প্রস্থে প্রশস্ততার জন্য একসময় নদী হিসেবে পরিচিত টরকী বন্দর সংলগ্ন পালরদী খালের কথা।
নান্নু মিয়া বলেন, প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ ফুট প্রস্থের এ খালটি উপজেলার পানিপ্রবাহে হৃৎপিন্ডের মতো এখনও কাজ করছে। খালটি দুইটি নদী ও চারটি খালের সঙ্গে সংযুক্ত। খালটির উন্নয়ন করে উপজেলার টরকী বন্দর জলাধার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা জরুরী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পালরদী খালটি দক্ষিণ-পূর্বে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে শুরু হয়ে পঞ্চিমে বাশাইল খাল হয়ে পয়সার হাট নদীর সঙ্গে মিশেছে । খালের ভেতরে ও দুই পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে কাঁচা-পাকা বহু স্থাপনা। ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। খালের ভেতরে কচুরিপানা ঠাসা। মাঝেমধ্যে মাটির স্তুপ। অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনার জঞ্জাল। পানিপ্রবাহের জায়গা গেছে সংকুচিত হয়ে।
খালপাড়ের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বরিশাল নিউজকে বলেন, ৫০ ও ৬০-এর দশকে খরস্রোতা এ খালকে নদী মনে হতো। নদী ও কয়েকটি শাখা খালের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় নৌপথে পরিবহন অনেক সহজ ছিল। এ কারণে তখন খালপাড়ে গড়ে ওঠে উপজেলার টরকী বন্দর এবং অভিজাত পরিবারগুলোর বসতি। তখন এ খালে একবার সুতিজাল টানলে এক নৌকা মাছ পাওয়া যেত।
বরিশাল নিউজের সাথে কথা বলেন উপজেলার ধানডোবা গ্রামের কৃষক হানিফ বেপারী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন না করার কারণে দুপাশে আগাছা জন্মেছে। ফলে পানি সময়মতো নিষ্কাশন হচ্ছে না। যার ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। খালটি যথাযথভাবে সংস্কার না করায় দিনে দিনে ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা ও প্রবাহের স্বাভাবিক গতি বাধা পাচ্ছে। এছাড়া খাল পাড়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকরা খালের পাড় কেটে নিচের কিছু অংশ ভরাট করে আবাদি জমি তৈরি করে নিজ দখলে নিচ্ছেন। ফলে খালের আকার সংকুচিত হচ্ছে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দখল-দূষণে অস্বিত্ব হারাচ্ছে খালটি। তবে খাল পাড় ও খালের ভেতরে কাঁচা-পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা কয়েকজনের দাবি, নিজের মালিকানাধীন জমিতেই তারা এসব স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, খালটি সংস্কার ও দূষণ থেকে মুক্ত করতে পারলে লাখ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যেত। যা দিয়ে উপজেলার মাছের চাহিদা অনেকটা মেটানো যেত।

বরিশাল নিউজ/শামীম

Comments

comments

২০১৮-০৮-০৯T২০:৪১:০১+০০:০০ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৯, ২০১৮ ৮:৪১ অপরাহ্ণ|