টি-২০ ও টাইগারদের

ম্যাচের একটি মুহুর্ত-ক্রিকইনফো

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। টেস্টের বিভীষিকা কাটিয়ে ওয়ানডের মতো তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও বাগিয়েছে বাংলাদেশ । তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলো টাইগাররা।
টেস্ট সিরিজে লজ্জার হারের পর এমনভাবে ঘুড়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশ দল, ভাবনায় আসেনি অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞেরও। ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে সেই বাংলাদেশই সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে শেষ করলো টি-টোয়েন্টি সিরিজও। টাইগাররা উঁচিয়ে ধরলো সীমিত ওভারের দুই শিরোপা।
তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার। এটিই যেনো লিখিত ছিলো। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যেনো দেখা গেলো বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। তামিম-সাকিব-নাজমুল অপুদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ১২ রানের জয় তুলে বাংলাদেশ সিরিজে আসে সমতায়। সেখান থেকেই শুরু হয় সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।
স্বপ্ন পূরণ করলো টাইগাররা। স্বপ্ন পূরণ হলো পুরো বাংলাদেশের সমর্থকদের। বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বার টি২০ সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। ২০১২ সালে আয়ারল্যানন্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের মতো বড় আনন্দের মুহূর্ত দেখে ফেলেছে বাংলাদেশ।
জয়ের নায়ক হিসেবে একজনের নাম বলা বেশ মুশকিলই হবে। পুরো দলই যেনো এক ছন্দে গর্জে উঠেছে শেষ দুই ম্যাচেই। প্রথম ম্যাচে তামিম-সাকিবের ব্যাট ঝলসে উঠলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জ্বলে উঠেছে লিটন দাসের ব্যাট। বোলাররা দুই ম্যাচেই ছিলেন সমান ছন্দে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লডারহিলে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে লিটন দাস ও তামিম ইকবালের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় টাইগাররা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ১৮৫ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয় তারা। আর এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের মতোই বৃষ্টি বাধায় পড়তে হয় ক্যারিবিয়ানদেরও। আর বৃষ্টি আইনেই শেষ পর্যন্ত ১৯ রানের জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৭.১ ওভারে ১৩৫ রান তোলার পর বৃষ্টিতে আর খেলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিজেদের ইনিংসে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম বলেই স্যামুয়েল বদ্রিকে বাউন্ডারি মেরে শুরু করেছিলেন লিটন। পরের ওভারে বোলিংয়ে আসা স্পিনার অ্যাশলি নার্সকে টানা দুটি ছক্কা মারেন লিটন। এরপরের বলে বাউন্ডারি। তামিমও যোগ দেন এই উৎসবে। তৃতীয় ওভারে বদ্রিকে চার ও ছয় উপহার দেন তামিম।
স্পিনারদের করা তিন ওভারে ঝড় তুলে দেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। পেসারদের হাতে বল দিয়েও স্বস্তি পেলেন না উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট। আন্দ্রে রাসেলের প্রথম দুই বলেই লিটনের চার ও ছক্কা। একই ওভারে তামিমের দুই বাউন্ডারি। মাত্র ৩.৪ ওভারেই এই জুটি বাংলাদেশের স্কোর পৌঁছে ছিলো পঞ্চাশে। টি-টোয়েন্টিতে যা বাংলাদেশের দ্রততম দলীয় ফিফটি।
পঞ্চম ওভারে কার্লোস ব্র্যাথওয়েতের বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ১৩ বলে ২১ রান করে ফেরেন তামিম। ভাঙে ২৮ বলে ৬১ রানের জুটি।
সৌম্য সরকার এ ম্যাচেও ব্যাট হাতে কিছুই করে দেখাতে পারলেন না। ফিরলেন মাত্র ৫ রানে। ১৪ বলে ১২ রান করে ফেরেন মুশফিকুর রহিমও। তবে এই ফাঁকে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি করে ফেলেন লিটন। বাংলাদেশের হয়ে সীমিত ওভারে তার প্রথম ফিফটি খেলে ফেলেন তিনি। আগের ১৪ টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছিল ৪৩ রান ও ১২ ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৩৬ রান ছিলো তার খাতায়। ৩২ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন তিনিও। উইকেট ধরে রাখার চেষ্টা করে যান অধিনায়ক সাকিব ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আগের ম্যাচে দলকে অনেকটা টেনে নিয়ে গেলেও এ ম্যাচি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাকিব। ২২ বলে ২৪ রান করেই ফেরেন তিনি। ১৬.৩ ওভার শেষ বৃষ্টি বাধায় খেলা বন্ধ থাকে কিছুটা সময়। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট কিছুটা আনন্দ দিলেও আরিফুল হক কেবল তাকে সঙ্গই দিয়ে গেছেন। ২০ বলে ৩২ রানে মাহমুদউল্লাহ ও ১৬ বলে ১৮ রানে আরিফুল অপরাজিত থেকেই শেষ করেন নিজেদের ইনিংস। ১৮৫ রানের বড় স্কোর তাড়ায় শুরু থেকেই হাত খুলতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় মাত্র ২৭ রানেই শট বলের ফাঁদে ফেলে আন্দ্রে ফ্লেচারকে ফেরান বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
পঞ্চম ওভারে তিন বল করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল অপু। সেখান থেকেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তার। তার বাকি ওভার করতে আসা সৌম্য ফিরিয়ে দেন ওয়ালটনকে।
পরের ওভারে সাকিবের ঘূর্নিতে কুপোকাত হয়ে ফেরেন মারলন স্যামুয়েলস। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩২।
দিনেশ রামদিন ও রভম্যান পাওয়েল স্কোর বড় করার চেষ্টা করেও পারেননি। হাতের নাগালের বাইরে ছিটকে যাওয়া ম্যাচ কিছুটা হলেও নিজেদের দিকে টেনে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন আন্দ্রে রাসেল তার খুনে ব্যাটিং দিয়ে। ছক্কার ফুলঝুরি হচ্ছিলো তার ব্যাটে। ৬ ছক্কা ও ১ চারে ২১ বলে ৪৭ রান করা রাসেলকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়ানদের সব স্বপ্ন শেষ করে দেন মোস্তাফিজ।
এরপরই আসে দ্বিতীয়বার বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই ম্যাচ রেফারি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে বাংলাদেশের জয়ের। মাত্রই কিছু দিন আগে আফগানিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া দলটিই সিরিজ জিতে নেয় টি২০র দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে।

বরিশাল নিউজ ডেস্ক/শাওন

Comments

comments

২০১৮-০৮-০৬T১২:১৯:৪৪+০০:০০ সোমবার, আগস্ট ৬, ২০১৮ ১২:১৯ অপরাহ্ণ|