নগরীর দুরাবস্থার জন্য দায়ীদের প্রত্যাখান করুন-মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহবুব বরিশাল নগরীর উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ১৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। নগরীর চায়না প্যালেস রেস্তোরাঁয় মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন ।
এ সময় তিনি বরিশাল নগরীর দুর্দশার জন্য দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ও টেকসইবিহীন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন । তিনি বলেন,নগরীর এই দুরাবস্থার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখান করতে হবে। এরআগে সিটি নির্বাচনগুলোতে মেয়র প্রার্থীরা চমকপ্রদ ইশতেহার দিয়ে নগরবাসীকে প্রতারিত করেছেন বলেন তিনি।
তার নির্বাচনী ইশতেহারে যা রয়েছে : নগরীতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ , মৌলিক অধিকারবঞ্চিত সকল নাগরিকের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা , নগরীকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর ও মনোরম রাখার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ ,নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষে সবধরনের কলকারখানা স্থাপনের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল সড়ক ও লেনে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নগরীর সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তা দ্র্বত সমাধানের লক্ষ্যে নগরপরিকল্পনাবিদ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সিটি প্লানিং টিম গঠণ ও তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া এবং বাজেট প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদগণের মতামত গ্রহণ করা। সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নবীণ-প্রবীণদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠণ করা। সিটি কর্পোরেশনের সকল কার্যক্রম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে যথাযথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠণের লক্ষ্যে এ কাজের উৎস খুঁজে বের করা, গডফাদারদের চিহ্নিত করা, অতপর ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, কাউন্সিলর ও প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ টিম গঠণ করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভুতি ও বিবেকবোধ জাগ্রত করা ও অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনের চেষ্টা করা। বিদ্যুতের সু-ব্যবস্থার লক্ষ্যে দৃষ্টিনন্দন সাশ্রয়ী সড়কবাতি স্থাপন করা ও নগরীর অন্ধকার দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। সংখ্যালঘু ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে প্রশাসনের সহযোগিতায় সকল প্রকার নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ প্রদান করা। অসহায় এবং আশ্রয়হীন পথশিশু ও নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা। বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। ভোলা থেকে বরিশাল নগরীতে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে নগরবাসীকে গ্যাস ব্যবহারের সুবিধা প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং সেল শক্তিশালী করা, প্রয়োজনে নতুন টিম গঠণ ও এর আধুনিকায়ন করা। নিরাপদ সড়ক গঠণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার, ফুটপাতবিহীন রাস্তার ফুটপাত তৈরি করা, বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোড়াখুড়ি বন্ধ করা ও যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পয়ঃনিস্কাসন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়মিত ড্রেন পরিস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ২৪ ঘন্টা সুপেয় পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নাগরিকদের জন্য অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করা এবং তাদের বিভিন্নমুখী অভিযোগ ও পরামর্শের ভিত্তিতে নগরীকে সার্বিকভাবে সুন্দরকরে গড়ে তোলা। এছাড়া তিনি নির্বাচিত হলে বরিশাল শহরে ইমামদের থাকার জন্য একটি ভবন তৈরি করা হবে বলে জানান।
বরিশাল নিউজ/শামীম

Comments

comments

২০১৮-০৭-১০T২২:১৮:২৬+০০:০০ মঙ্গলবার, জুলাই ১০, ২০১৮ ১০:১৮ অপরাহ্ণ|