মেয়রের আশ্বাসে বিশ্বাস নেই !


বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের আশ্বাসে বিশ্বাস করতে পারছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি আগে একাউন্টে টাকা জমা দিতে হবে। তাই দাবি আদায়ে তারা নতুন করে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
তাদের কাজে যোগ দিতে আহবান জানিয়েছেন মেয়র। জেলা প্রশাসকও কাজে যোগ দিয়ে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের।
সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল মঙ্গলবার বরিশাল ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের সাথে ৮/১০ বার বৈঠক করে ১১ মার্চ সমঝোতা হয়। কিন্তু তারা কাজে যোগ না দিয়ে ১৪ মার্চ থেকে নতুন করে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে । তাদের এই আচরনকে কুচক্রীমহলের কাজ আখ্যায়িত করে মেয়র বলেন,তার উন্নয়ন কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওই মহলটি আন্দোলনকারীদের উস্কানী দিচ্ছে। মেয়র আরো বলেন,সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মঘটে যেতে পারেননা । ২৩ দিন ধরে নগর ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের আন্দোলনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন নগরবাসী বলেন মেয়র।
মেয়র আহসান হাবিব কামাল আরো বলেন,তার আমলে মাত্র দুই মাসের বেতন বকেয়া পরেছে। বাকি তিন মাসের বকেয়া বেতনসহ
৩৬টি প্রোভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন আমলের। তাকে নুতন বর্ধিতহারে বেতন দিতে গিয়ে প্রায় আড়াইগুন বেশী অর্থ সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলেন মেয়র। মেয়র বলেন,ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা একস্থানে এনে চেকের মাধ্যমে প্রদান করতে ৪/৫দিন লেগে যায়। তাকে সেই সময়ও দেওয়া হয়নি। তিনি সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে কাজে যোগদানের আহবান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের।
এদিকে মেয়র সংবাদ সমম্মেলনে অংশ নিতে বরিশাল ক্লাবে পৌঁছুলে আন্দোলনরত কর্মচারীরা সেখানে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে আন্দোলনকারীদের নেতা দীপক মৃধা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘১১ মার্চ আন্দোলনকারীদের সাথে সমঝোতা হয়েছে’ বলে মেয়র যে বক্তব্য দিয়েছেন তা শুধুই ‘মিথ্যাচার’ ।
দীপক মৃধা বলেন, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তিন কিস্তিতে ৫ মাসের বেতন ও ১০ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত
১১ মার্চ মেয়রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। মেয়রের দেওয়া কোন আশ্বাসে তাদের বিশ্বাস নেই জানিয়ে তারা বলেন,এরআগে বহুবার মেয়র বেতন পরিশোধের কথা বলেও তা করেননি। তাই এবার একাউন্টে টাকা জমা না হলে আর কাজে ফিরবেননা তারা।
দীপক মৃধা জানান,তাদের দাবি মঙ্গলবার এর মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হলে বুধবার ( ১৪ মার্চ) থেকে চলমান আন্দোলনের সাথে নতুন করে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি এবং করপোরেশনের সকল অফিসে তালা এবং বিদ্যুৎ,পানি সরবরাহ এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপরে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নগরবাসীর সমস্যা লাঘবের জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের দারপ্রান্তে উপনীত হয়েছেন। মেয়রকে বকেয়া বেতন দিতে হলে অফিস খুলতে হবে। অফিস না খুললে মেয়র বেতন দেবেন কিভাবে বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশনে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিমাসে বেতনের জন্য প্রয়োজন প্রায় আড়াই কোটি টাকা। গড়ে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় তিন কোটি টাকা।টাকার অভাবে মেয়র এবং কাউন্সিলররাও সম্মানী নিচ্ছেননা।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান

Comments

comments

২০১৮-০৩-১৩T২০:৩৭:১২+০০:০০ মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮ ৮:২৫ অপরাহ্ণ|